আপনি আপনার সন্তানের জন্য কতদূর কি করতে পারেন?

 


আপনি আপনার সন্তানের জন্য কতদূর কি করতে পারেন? খুব বেশি হলে সোনা এবং অর্থ জমা করে রাখবেন আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। ৪০ বছর বয়সী ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এক বয়স্ক পিতা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে আবর্জনা জমিয়ে রেখেছিলেন।


সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সম্প্রচারিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন রাস্তা থেকে আবর্জনা এনে নিজের দোতলা বাড়িতে জমা করে রাখতেন ৭৫ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি যার নাম চই। বাড়ির উঠোন বেলকনি এমনকি অন্দরমহলে ভরে গিয়েছিল আবর্জনাতে। এতটাই আবর্জনা তিনি জমা করে রেখেছিলেন যে অবশেষে আবর্জনার ওপর দিয়ে ঢুকতে হতে বাড়িতে।


এক দশক ধরে এই ভাবেই বসবাস করছেন তারা। সংসারে ওই ব্যক্তি ছাড়া রয়েছেন তার স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলে। মূলত ছেলের জন্যই এই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছিলেন তিনি। দম্পতির ছেলের বয়স ৪০ বছর,ওজন প্রায় ১০০ কেজিরও বেশি। গত এক বছরে একবারও বাড়ির বাইরে বের হয়নি ওই ছেলে। সারাদিন ছোট্ট একটি কক্ষে নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছেন তিনি।


বাবা-মা বহুবার চাকরির জন্য অনুনয়-বিনয় করলেও ছেলের সেই বিষয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা লক্ষ্য করা যায়নি। উল্টে নিজের ঘরে বেশ মজা করেই থাকতেন তিনি। আর ঠিক এই কারনে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আবর্জনা জমানোর কান্ড শুরু করেছিলেন চই।


এই প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বলেন, আমার ছেলেটা সারাক্ষণ ঘরে থাকতে পছন্দ করে চাকরি করার কোনো ইচ্ছে নেই তার। ব্যাপারটি নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। কোন একটি সময় আমরা যখন থাকবো না তখন ওকে দেখার জন্য কেউ থাকবে না। তাই রাস্তায় যা দেখি নিয়ে চলে আসি বাড়িতে। মনে হয় কোনো না কোনো সময়ে এটি কোন কাজে লাগবে।


চই এর স্ত্রী মারাত্মক হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তাকে। তাই অবশেষে স্ত্রীর মঙ্গলের জন্য বাড়ি পরিষ্কার করার অনুমতি দিয়েছেন তিনি সরকারকে। অনুমতি পাওয়ার পর ২২৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং একটি গাড়ির সাহায্যে ১৫০ টন আবর্জনা সরানো হয় ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে। এই প্রথমবার সন্তান নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম খোলা আকাশের নিচে।

যদিও বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে দেখে রীতিমতো ভেঙে পড়েন চই। কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলেন, আমি আমার পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আর কোনদিন ময়লা সংগ্রহ করবো না এই কথা দিলাম।

Post a Comment

Previous Post Next Post