শিক্ষামন্ত্রী ধরাছোঁয়ার বাইরে

হঠাৎ করেই সংবাদমাধ্যমে নজর পড়ে গেল সকলের। গত বছর পর্যন্ত যে শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে উপহাসের ফোয়ারা বয়ে গিয়েছিল সকলের মুখে, সেই শিক্ষকরা মঙ্গলবার প্রতিহিংসামূলক বদলির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেন। সারাবাংলা দেখল শিক্ষক আন্দোলনের একটি মর্মান্তিক রূপ। কোন শিক্ষকের মুখ দিয়ে ফেনা গড়িয়ে পড়ছে কারোটা আবার মুখ দিয়ে উঠে আছে সাদা বমি। কেউ আর মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে যন্ত্রণায়। প্রায় সকলেই যে শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোঝা যাচ্ছে সেই দৃশ্য দেখে।

মঙ্গলবার ৫ জন শিক্ষিকা বিকাশ ভবনের সামনে এসে দাবি করেন, তাদের প্রতিহিংসামূলক বদলি করে দিচ্ছে সরকার। বদলি করা হচ্ছে শত শত মাইল দূরে। যে বেতন তারা পান এমনিতেই অত দূরে গিয়ে তাদের মরতে হবে, তার থেকে ভালো বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেয়ে মরা। কথা বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্গে নিয়ে আসা বিষের বোতল খুলে মুখে ঢালতে শুরু করেন তারা।


কোন কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ করে আকস্মিক এই ঘটনার ফলে হতভম্ব হয়ে পড়েন পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সক্রিয় হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে গরলের সক্রিয়তা। গত ১১ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে যতবার শিক্ষক আন্দোলন হয়েছে, তার সমস্ত ছাপিয়ে গেছে মঙ্গলবারের আন্দোলন।

জানতে পারা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষিকারা এসএসকে অথবা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের বৃত্তিমূলক শিক্ষক, যারা খুবই কম বেতন পান। তাদের মধ্যে এক শিক্ষিকার বাড়ি মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা এলাকায়, যাকে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। মুর্শিদাবাদের অন্য একজন শিক্ষিকা ছবি রানী দাস হাজরাকে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে জলপাইগুড়িতে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষক বদলি করে দেওয়া হচ্ছে জলপাইগুড়িতে। শিখা দাস বদলি হয়ে যাচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কোচবিহারে। সর্বশেষ পুতুল মন্ডলকে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে কোচবিহারে।


বিষ খাওয়ার আগে এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক হাজার টাকা আমি বেতন পাই। বাড়িতে আমার তিনজন সন্তান রয়েছে। ওই কটা টাকায় কয়েকশো মাইল দূরে চাকরি করলে সংসার চলবে কি করে? অন্য এক শিক্ষিকা দাবি করেছেন, সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদ করায় ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রতিহিংসামূলক বদলি করানো হলো। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পুলিশ আমাদের দেখা করতে দিচ্ছে না।

ঠিক এর পরেই হঠাৎ করে বিকাশ ভবনের গেট পেরিয়ে ব্যাগে রাখা কীটনাশকের বোতলের ছিপি খুলে মুখে ঢালতে শুরু করেন সকলে। হঠাৎ করে এমন একটি ঘটনা দেখে পুলিশ আধিকারিকরা হকচকিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে ওই পাঁচ জন শিক্ষককে ভর্তি করানো হয়েছে এ বিধান নগর হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শিক্ষা মন্ত্রী স্কুল শিক্ষা সচিবের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সদস্য ওই পাঁচজন শিক্ষিকা। শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন তারা। বিভিন্ন ইস্যুতে বহুদিন ধরেই আন্দোলন করেছিলেন তারা। চাকরি স্থায়ীকরণ সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিক্ষোভ জানাচ্ছিলেন। বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন তারা। তাই অবশেষে বদলি করিয়ে দেওয়া হলো তাদের।

Post a Comment

Previous Post Next Post