তবে এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না

বৈশ্বিক বিমান নির্মাতারা বর্তমানে ভারতীয় কোম্পানী গুলির উপর ভরসা করে আছেন, বিশ্বজুড়ে অনেকই বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা প্লেনের কিছুটা অংশ রয়েছে ভারতেরও।  ভারতের  উদায়ন্ত মালহোত্রা, যিনি সাত বছর বয়সে এরোমডেলিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। জটিল এয়ার মডেল তৈরি করে তাকে পরিচালিত করেছেন এবং বর্তমানে তিনি বোয়িং এয়ারবাস ও বেল হেলিকপ্টারের জটিল বৈমানিক যন্ত্রাংশ কাঠামো এবং নকশার এক অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী, ডায়নাম্যাটিক টেকনোলজিসের প্রধান নিবার্হী ও ব্যবস্থাপনার পরিচালক। 

এক কথায় বলা যায় ভারতের সৃষ্টির দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। ভারতে ডায়নামেটিক টেক, আইকুশ, টাটা , মাহিন্দ্রা এরকম আরো অনেক বড় ছোট কোম্পানি ভারতকে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই বিমানের উপাদান সরবরাহের মাধ্যমে এটি একটি যথেষ্ট বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এয়ারবাসের বৈশ্বিক পণ্যগুলি উভয় উপাদান এবং পরিবেশষাদি ক্রয়ের মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়। 


দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামি মাইলর্ড তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, এয়ারবাস যে সমস্ত বাণিজ্যিক বিমান বাহিনী তৈরি করে তার নকশা বা প্রযুক্তি সবই ভারতের থেকে প্রাপ্ত। তিনি আরো বলেন তারা শুধু মাত্র 7 হাজার  কর্মসংস্থান করছেন না ক্রমশ ভারতের কন্ট্রিবিউশন টা বেড়ে চলেছে।  ভারতীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে উপাদান ও পরিষেবা উভয়ই কেনার মাধ্যমে বৈশ্বিক পণ্যগুলি তে ভারতের অবদান বেড়ে চলেছে। তবে এই বিমান যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কে দুটো শ্রেণীতে ভাগ করা যায় টিআর ওয়ান ও টিয়ার টু।


টি আর ওয়ান সরবরাহকারীরা সরাসরি কোম্পানিকে সরবরাহ কর, যখন টিয়ার টু আউটফিট গুলি-টিয়ার ওয়ান সরবরাহকারীদের পরোক্ষ সরবরাহকারী। তবে ভারতীয় কোম্পানি মাহিন্দ্রা অনেক কোম্পানির মধ্যে অন্যতম, যারা বৈশ্বিক নির্মাতাদের বিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে থাকে। তবে মাহিন্দ্রা স্ট্রাকচার গুলি এয়ারবাস এর জন্য পার্টসের সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মাহিন্দ্রা অ্যারোস্পেস এর নির্বাহী পরিচালক তথা প্রধান নিবার্হী অরবিন্দ মেহেরা ও মাহিন্দ্রা এর স্ট্রাকচার এর এমডি এবং সিইও বলেন যে, শিল্পে নতুন সরবরাহকারীদের সুযোগ বৃদ্ধি পেল ২০০৯ সালে মহাকাশ ব্যবসায় প্রবেশ করেছিল তাঁরা। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল একাধিক ও ই এম এবং তাদের সরবরাহকারীদের সমর্থন করা। 


অপরদিকে ডায়নামেটিক টেকনোলজির বিমান এয়ারবাস ৩৩০ ফ্ল্যাপ ট্রাক বিমস্ সমাবেশের জন্য টি আর ওয়ান সরবরাহকারী। তবে কি এই এফটিবি? এফটিভি হলো এমন যন্ত্র যা বিমানের গতি দিক এবং ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অন্যদিকে বেলাগাভি ভিত্তিক আইকুশ এরোস্পেস হলো ভারতের প্রথম উল্লম্বভাবে সমন্বিত মহাকাশ উৎপাদন বাস্তুতন্ত্র। এটি হলো ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। এয়ারবাসে টি আর ওয়ান ও টু সরবরাহকারী হিসেবে যন্ত্রাংশ ফরজিং এবং এয়ার স্ট্রাকচার সরবরাহ করে। তবে এসবের থেকে টাটা কোম্পানিও কিছু পিছিয়ে নেই।


 টাটা এডভান্স সিস্টেম, টাটা অ্যাডভান্স মেটিরিয়ালস লিমিটেড এবং টাটা অটোমেশন লিমিটেড এর মত টাটা সাবসিডিয়ারি একাধিক বিমান কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত টিবিএএল ৭৭৭ অ্যাপ্লক বক্স তৈরি করে থাকে। এটি একটি ধাতব ও কাঠামো যা ল্যান্ডিং গিয়ার কে প্রত্যাহার করে। তার সাথে ৭৭৭ উলম্ব পাখনা  যা এয়ারো ডাইনামিক সাইট স্লিপ কমাতে এবং দিকনির্দেশনা স্থির করার জন্য তৈরি করা কাঠামো। এছাড়াও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন উইন্সলেট তৈরিতেও শত শত এমএসএমই প্রয়োজন হয়।


 তবে এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না, এই সমস্ত সংস্থাগুলি বর্তমানে যথেষ্ট ভালো করছে কিন্তু শুরুর দিকে ভারতকে মহাকাশ প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় করা হয়নি, তা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছিল যেমন এস.এ.পি. সম্পর্কে জানা ছিল কিনা ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। তবে সেই সব পেরিয়ে ভারত এখন নিজের অবস্থানে অনেকটাই উন্নতি করে নিয়েছে। তবে কাঁচামাল আমদানি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। বিদেশীরা ভারতে কাজ করার জন্য প্রয়োজন ভিসার।সে প্রসঙ্গে মাহিন্দ্রা বলেন যে, এই শিল্পটি একটি দীর্ঘ গর্ভকালীন শিল্প এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিক দরকার, আর এই দক্ষ শ্রমিক নিয়েই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে  কারণ ব্যাঙ্গালুরুতে গ্রামীণ জেলার তরুণ কারিগররা প্রশিক্ষণ নিয়ে ডায়নামেটিক টেক মোকাবিলা করছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বিমান তৈরি প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। মালহোত্রা বলেন যে, ভারত উন্মাদ গতিতে বিমান কিনে চলেছে কিন্তু মহামারীর আঘাত হানার আগে বিপুল সংখ্যক বিমানের অর্ডার দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০০ উড়োজাহাজ পাওয়ার আশা করছে এবং কয়েক বছরের মধ্যে ভারত নিজেকে তৃতীয় বৃহত্তম বিমান বাজারে পরিণত করতে সক্ষম হবে।


 তবে এই শিল্পের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোভিড মহামারী। যার ফলে বর্তমানে এখন দেশে ফ্লাইট অপারেশন অনেকটাই কমে গেছে, বিশেষত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট তো বন্ধই। তবে ভারত ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশের সাথে এয়ার বুদ বুদ ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে অনেক দূর পাল্লার ফ্লাইট এখনো চালু করতে পারেনি অন্যরা। অনেক নতুন প্ল্যান এর অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছে এয়ারলাইন্সগুলিকে, বোয়িং এয়ারবাস এবং অন্যান্য বিমান নির্মাতাদের উৎপাদন হ্রাস করতে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে উড়োজাহাজের উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপাদান সরবরাহ বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েছে। ফলে তারা এখন ডিফেন্সে ফোকাস করেছে। প্রতিরক্ষা বিমান তৈরিতে নতুন ছাপ ফেলেছে ভারতীয়  নির্মাতারা। ডায়নামেটিক তার প্রতিরক্ষা উৎপাদন ত্বরান্বিত করেছে এবং তার সাথে বেসামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে মহামারী জনিত কারণে। এই সমস্ত বিমান গুলি আপাতত বিশ্বব্যাপী স্থগিতই রয়েছে, তবে আশা করা যায় প্রতিরক্ষা বিমানগুলি আগামী বছর গুলিতে আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এবং মেকিং ইন্ডিয়ার ওপর মনঃসংযোগ রেখেছে ভারত, এমনই মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post