বাংলা চলচ্চিত্রের ইন্ডাস্ট্রি কি তাকে ভুলে গেছে ?

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়। একাধারে তিনি বেশকিছু সিনেমা এবং সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনয় দক্ষতা তার অসম্ভব সুন্দর মার্জিত ব্যবহার সকলকে মুগ্ধ করে দিত। কিন্তু ছয় বছর আগে আচমকা একটি দুর্ঘটনার ফলে আমাদের সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়।সত্যি দেখতে দেখতে দিন কিভাবে চলে যায়। যে সময় তিনি পরলোকগমন করেছিলেন, তখন তিনি অভিনয় করতেন স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল "জল নুপুর" ধারাবাহিকে।

পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিপরীতে সেই সময় অভিনয় করতেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অপরাজিতা এবং তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পীযূষ। দীর্ঘ ৬ বছর পরে আরো একবার সহকর্মীর স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেন অপরাজিতা।


প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, সারা জীবন তিনি আমার স্যার থেকে যাবেন। পীযূষ এর মত একজন অভিনেতা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আর কোনদিন পাবে না। তিনি নিজেই একজন ইন্ডাস্ট্রি ছিলেন। তার কথা আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না। অপরাজিতার পীযুষ স্যার বলে সম্বোধন করার অন্যতম কারণ হলো, জল নুপুর ধারাবাহিকে অভিনয় করার সময়ে পীযূষ পরির স্যার ছিলেন। পরী ছিল একজন স্পেশাল চাইল্ড। তার গানের স্যারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন পীযূষ। তাই ব্যক্তিগত জীবনেও পীযুষকে স্যার বলে সম্বোধন করতেন অপরাজিতা।


প্রসঙ্গত, ৬ বছর আগে এক অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার সময় হাওড়া সাঁতরাগাছির কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন পীযূষ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মাত্র ৫০ বছর বয়সে জীবনের সমস্ত ভূমিকা থেকে ছুটি নিলেন এই অভিনেতা।

কিন্তু পীযুষের মত একজন দক্ষ ড্রাইভারের কি করে এক্সিডেন্ট হতে পারে এই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিনেতার মা কয়েক মাস আগেই মারা গিয়েছিলেন, মায়ের মৃত্যু হয়তো তাকে ভীষণ ভাবে আঘাত দিয়েছিল তাই ড্রাইভিং করার সময় হয়তো কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মায়ের টানেই ছেলে পরলোক গমন করেছিলেন অবশেষে।

Post a Comment

Previous Post Next Post