প্রতিবার বলতো কাকুকে দেখতে এসেছি

বর্তমানে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি হয়ে যাবার ফলে অনেকাংশে দেখা যায় বৃদ্ধ বাবা-মা একা একটি ফ্ল্যাটে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে নয় একমাত্র ছেলে বাইরে পড়াশোনা অথবা চাকরির জন্য চলে গেছে। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। এমনই  ৮০  পেরিয়ে যাওয়া একজন বৃদ্ধ বড় দোতলা বাড়ির একটি ঘরে একা থাকতেন।

বেশ কয়েকদিন ধরে ঐ বৃদ্ধর বাড়িতে দু তিনজন মহিলা আসা-যাওয়া করতেন। বৃদ্ধর বাড়িতে আছেন বেশ কয়েকজন বৃদ্ধ। প্রথমে প্রতিবেশীরা মনে করতেন, হয়তো তারা বয়স্ক মহিলার খোঁজখবর নিতে আসেন। কিন্তু তা একেবারেই নয়। বিষয়টি একেবারেই অন্য। প্রথমে সন্দেহ না হলেও বেশ কয়েকদিন এমন আসা যাওয়া দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হতে শুরু করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রতিবেশীরা।


উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের একেবারে খোদ শহরের বুকে ঐ বৃদ্ধর বাড়িতে দিনে-দুপুরে বসত মধুচক্রের আসর। রায়গঞ্জের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উকিল পাড়া এলাকায় ওই বৃদ্ধের বাড়ি। বৃদ্ধের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে সেখানে চলতে মধুচক্রের আসর। দীর্ঘদিন স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্ত বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন, অবশেষে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।


ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে যায় ওই অঞ্চলে। বাড়িতে একাই থাকতেন ঐ বৃদ্ধ। ওই বাড়িতে বেশ কয়েকজন কাজের লোক রয়েছে, যারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। কিন্তু কিছু মাস ধরে আচমকা বৃদ্ধের বাড়িতে বেশ কয়েকজন মহিলা এবং পুরুষের আনাগোনা শুরু হওয়ায় খটকা লেগে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।


প্রতিবেশীদের বয়ান অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা ওই বাড়িতে আসতেন, বেশ কয়েক ঘণ্টা থাকতেন এবং চলে যেতেন। কোন সময় তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা এড়িয়ে চলতেন। আবার কোনো কোনো সময় হয়তো বলতেন, কাকুকে দেখতে এসেছি।

কিন্তু এইভাবে প্রত্যেকদিন অচেনা ব্যক্তিদের আসা যাওয়া শুরু হওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়ে যায় প্রতিবেশীদের। নিয়ম করে তারা বাড়ির ওপর নজর রাখতে শুরু করেন। বৃহষ্পতিবার ৩ মহিলা এবং বেশ কয়েক জন পুরুষ যখন ওই বাড়িতে ঢুকে যায়,
ঠিক তখনই আসল বিষয়টি সকলের সামনে উঠে আসে।


তবে প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই বৃদ্ধ জড়িত নন। বাড়ির মালিক বয়স্ক হয়ে যাওয়ায় কার্যত তাকে অন্ধকারে রেখে এই সমস্ত কাজ করা হতো। কিন্তু বৃদ্ধ আদৌ কিছু জানতেন কিনা তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মধুচক্রের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিরা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বৃদ্ধ তরফ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post