প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা দান



               "ছেলের বিয়ে দিচ্ছি, তবুও নিচ্ছি পণের টাকা ; মেয়ের বিয়ে দিয়ে বাবার পকেট হচ্ছে ফাঁকা"। সমাজের চিরাচরিত পণপ্রথার বিরুদ্ধে বর্তমান সমাজ সরব হয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা নিজেই নিজের বিয়ে ভেঙে দিয়ে পণপ্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। যদিও সর্বতোভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে মানসিকতার পরিবর্তন হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। তবুও, এই পরিবর্তন আশা জোগাচ্ছে। বর্তমানে এইরূপ আরও একটি ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজস্থান।

            ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের বারমেঢ় শহরে। গত ২১ শে নভেম্বর প্রবীর সিং গাঁটছড়া বাঁধেন অঞ্জলী কানওয়ারের সঙ্গে। অঞ্জলী হলেন কিশোর সিংয়ের মেয়ে। মেয়ের বিয়ের পণের জন্য গচ্ছিত টাকা মেয়ের ইচ্ছাতেই মেয়েদের হোস্টেল তৈরির কাজে দান করলেন বাবা। এই খবর ভাইরাল হতেই সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।

                সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের আগেই মেয়ে অঞ্জলী তার বাবা কিশোর বাবুকে অনুরোধ করেছিলেন, তার বিয়ের পণের জন্য রাখা টাকা যাতে মেয়েদের হোস্টেল তৈরির কাজে ব্যয় করেন তিনি। মেয়ের কথা রাখতেই, মেয়ের বিয়ের পর তারাতারা মঠের প্রধান মহন্ত প্রতাপপুরীর কাছে একটি চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে তাঁর মেয়ের ইচ্ছের কথাই লিখেছিলেন তিনি। এরপর মেয়ের হাতে কিশোর সিং তুলে দেন ৭৫ লক্ষ টাকার একটি চেক, যেটি তাঁর মেয়ে অঞ্জলী প্রতাপপুরীর হাতে তুলে গার্লস হোস্টেল তৈরির উদ্দেশ্যে।

          বিশেষ সূত্রের খবর, এর আগে প্রবীর সিং ওই হোস্টেল তৈরির কাজে ১ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই টাকা যথেষ্ট ছিল না। তাই, সম্পূর্ণরূপে হোস্টেল তৈরির কাজে ৭৫ লক্ষ টাকা মঠকে দেন অঞ্জলী সিং ও তার পিতা কিশোর সিং। কন্যাদান এর সময় পণপ্রথার বিরুদ্ধে মেয়ে ও বাবার এই সুন্দর মানসিকতা এবং মেয়েদের শিক্ষা প্রসারের এই আগ্রহ দেখে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। 



                   

Post a Comment

Previous Post Next Post