কে এই বাদামওয়ালা ?

সুরের জাদুতে বিক্রি হচ্ছে বাদাম। এক অভিনব বিক্রেতার সাথে পরিচয় হলো সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রেমিক মানুষদের।

যিনি বাদামের সাথে মানুষকে গান শুনিয়েও বেড়াচ্ছেন, আশ্চর্য হতে হয় এটা দেখে যে তিনি বাদাম বিক্রি করছেন তার বিনিময়ে নিচ্ছেন না টাকা, নিচ্ছেন ছেঁড়া চুল, খারাপ মোবাইল, সিটি গোল্ডের চেন, চুড়ি, বালা, পায়ের মল, প্রভৃতি।  এই দুর্মূল্যের বাজারে এমন মানুষের দেখা যে মিলতে পারে তার ধারণাই ছিল না আমাদের। তিনি আর কেউ নন ভুবন বাদ্যকর, যিনি বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষীনারায়নপুর পঞ্চায়েতের কুরালজলি গ্রামের বাসিন্দা।

 তিনি পেশায়  বাদাম বিক্রেতা, তাছাড়াও তার একটু আধটু শখও আছে গান-বাজনার। তিনি স্টেজেও এক-দুবার গান গেয়েছেন। তাঁর কথায় আমরা জানতে পারি, তিনি বাদাম বিক্রির জন্য এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম ঘুরে বেড়ান এবং গুন গুন করে গান গাইতেন।আর ভাবতএন কী করে অভিনব পদ্ধতিতে বাদাম বিক্রি করা যায়।
তাই গুনগুন করে গান গাইতে গাইতেই হঠাৎ একদিন নিজেই গান বেঁধে ফেললেন যে সেই গানের জাদুতে শুধুমাত্র এখন গ্রামের মানুষগুলি নন, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার গান ভাইরাল হয়েছে।

এখন ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই বাজছে এই গান। কয়েক মিলিয়ন মানুষ মুহূর্তে সাক্ষী থেকেছেন এই গানের।  আগে তিনি সাইকেলে করে বাদাম বিক্রি করতেন, বর্তমানে তিনি একটি পুরানো বাইক কিনেছেন যাতে করে তিনি এখন বিক্রি করেন। মোটরসাইকেলের পেছনে কাঁচা বাদামের বস্তা বেঁধে গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরে বেড়ান, এমনকি তিনি পাশের রাজ্য ঝাড়খন্ডেও বাদাম বিক্রি করতে যান। 

তাঁর বাড়িতে আছেন দুই ছেলে, বৌমা-মেয়ে বউ। তাদের একমাত্র ভরসা এই ভুবন।  সংসারের সমস্ত দায়িত্বভার তার ওপর এবং তাঁর দিন ৫ থেকে ১০ কেজি বাদাম বিক্রি হয়। তা থেকে তাঁর ২০০-২৫০ টাকা দিন উপার্জন হয়, তা দিয়ে কোনরকমে চলে যায় তাদের। তাঁকে দেখে অনেক কিছু শেখারও আছে,  শত দারিদ্রতার মাঝেও তিনি সুর বাঁধতে ভুলেন না, এভাবেই হয়তো জীবনকে উপভোগ করতে হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post