সন্তান মারা গেছে ভেবে তারা বাড়ি চলে যান

এক মধুর মিলন দেখল সবাই! মা ছেলের চোখ জুড়ানো সে মিলন; যদিও প্রথমে মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেক খোঁজাখুঁজি অনুসন্ধান করার পর মাকে পাওয়া যায়; বর্তমানে মা এবং শিশুর দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

  এমনই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে শালবনির বালি বাঁধের বাসিন্দা জবা হেমব্রম হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন গত ২৫ শে মার্চ; কিন্তু সময়ের অনেক আগেই সন্তান জন্ম হয় তাঁর, যে কারনে প্রাণ সংশয়ও দেখা যায় শিশুটির, কারন তাঁর সন্তানের ওজন মাত্র ৭৮০ গ্রাম। তাঁকে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচের ঘরে, সেখানে রেখে চিকিৎসা শুরু হয় ওই ছোট্ট একরত্তির। 

 তবে  ছেলেকে মরার মত পড়ে থাকতে দেখে কান্নাকাটি শুরু করেন জবা হেমব্রম, সে কোনভাবেই নড়াচড়া করছিল না। সকলকে তিনি জিজ্ঞাসা করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাড়ি চলে যেতে বলেন, তাঁরা সন্তানটি মারা গেছে ভেবে বাড়ি চলে যান, কিন্তু তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার ছয় দিনের মাথায় আবারও হাসপাতাল থেকে ফোন যায় তাঁর কাছে, বলা হয় জলদি আসুন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, এমন আচমকা খবরে জবা সহ পুরো পরিবার তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছান এবং গিয়ে দেখেন ছেলে দিব্যি আছে নিজের মতো, হাত পা নাড়ছে।

 তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি সমস্ত ঘটনাটাই ঘটেছে এক ভুল-বোঝাবুঝির ফলে, কারণ অসুস্থ সদ্যোজাতকে প্রসবের সঙ্গে সঙ্গেই নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ফলে সেখানে মায়ের প্রয়োজন হয় না, দিনে দু একবার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য এলেই মায়ের প্রয়োজন শেষ। সে ক্ষেত্রে প্রসূতিকে কেউ হয়তো হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার কথা বলেছিল তাই তাঁরাও সন্তান মারা গেছে ভেবে চলে গিয়েছিলেন। তবে হঠাৎই এমন সুখবর তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তা তাঁরা ভাবতেই পারেননি, এই সুখটুকুই যেন আজীবন থাকে তাঁদের জীবনে এই আশায় রাখি আমরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post