দুর্নীতির অভিযোগ আসতেই তদন্ত শুরু হয়েছিল

এবার এক দৃষ্টান্ত মুলক পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট! বেশ কয়েকদিন ধরেই এসএসসি দুর্নীতি মামলা নিয়ে সরগরম হয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজ্য রাজনীতির প্রত্যেকেই। এরকম কড়া পদক্ষেপরই আশা করছিলে সবাই, অবশেষে সেটাই হলো।

 এক অনন্য নজির করল কলকাতা হাইকোর্ট, এদিন অঙ্কিতা অধিকারীকে তার চাকরির পদ থেকে বরখাস্ত করা হলো এবং মাত্র দু'টি কিস্তিতে তার প্রাপ্য বেতনের সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেবারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ফলত অঙ্কিতা অধিকারী আর নিজেকে কোথাও শিক্ষক বলে পরিচয় দিতে পারবেন না। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে এখনো পর্যন্ত তিনি যা বেতন পেয়েছেন, সমস্তটাই তাঁকে দুটি কিস্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে হবে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে। 

 প্রথম কিস্তি ৭ই জুন ও দ্বিতীয় কিস্তি ৭ই জুলাই, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এদিন জানান যে অঙ্কিতা মোট ৪১ মাসের মাইনে পেয়েছেন সবটাই তাঁকে  ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে শুধুমাত্র অঙ্কিতার বিরুদ্ধে নয় রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে নিজের মেয়ের কম নাম্বার থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি, ববিতা বর্মনের এক নম্বরে নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি না পেয়ে কোচবিহার স্কুলের চাকরি পেয়েছিলেন মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী।

 কিভাবে এটি সম্ভব হল? তা নিয়ে এবার পরেশ অধিকারীকে সিবিআই দপ্তর হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার তাঁর আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি পরবর্তী ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের তরফ থেকে গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটে পর্যন্ত নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়, তার মধ্যে না এলে তাঁর বিরুদ্ধে বড়োসড়ো পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন সি বি আই,যে কারণে তড়িঘড়ি গতকালকের বিমানে করে এসে পৌঁছান তিনি কলকাতায় এবং নিজাম প্যালেস হাজিরা দেন।

গতকাল বেশি  করে জেরা করতে পারেনি  সি বি আইরা, যে কারণে আবারো তাঁকে তলব করা হয়েছে নিজাম প্যালেসে, বলা চলে একরকম ম্যারাথন জেরা চলছে তাঁকে ঘিরে, কারণ পরেশ অধিকারী কে জেরা করে তদন্তকারীরা মোটেও খুশি নন, তবে অন্যদিকে সমস্ত আপামর সাধারণ মানুষ সহ রাজনীতিবিদরা  বিচারপতির অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এরূপ পদক্ষেপে অত্যন্ত খুশি । 

Post a Comment

Previous Post Next Post